কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ এ ০৫:৩২ PM
কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ১৯-০৭-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ৩১-১২-২০২৬
গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ মধ্যরাতে সাপে কাটা এক রোগীকে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রোগীর নাম মানহা (১৬)। তাঁর বাড়ি বেতছড়ি, দীঘিনালা।
ভর্তির সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে, তখনও বিষক্রিয়ার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। তাই জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী রোগীকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং বিষক্রিয়ার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসককে জানাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরদিন সকালে রোগীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া, ঘাড় সোজা রাখতে না পারা এবং অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেয়। রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসকদের সম্মতিক্রমে দ্রুত Anti-Venom প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্মরণকালে এই প্রথম কোনো সাপে কাটা রোগীকে Anti-Venom প্রদান করা হলো।
Anti-Venom প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগীর বিষক্রিয়ার লক্ষণ দ্রুত কমতে শুরু করে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। পরবর্তীতে সম্ভাব্য জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রোগীকে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণের জন্য একদিন সদর হাসপাতালে রাখা হয়।
গতকালও যে মানহা সাপের বিষক্রিয়ায় সংকটাপন্ন ছিলেন, আজ তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় হাসিমুখে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। হাসপাতাল ত্যাগের আগে তিনি দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক সেবা এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সচেতনতামূলক বার্তা:
1. সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যান।
2. ওঝার ঝাড়ফুঁক, কবিরাজি বা অন্য কোনো অপচিকিৎসায় মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না।
3. সব সাপ বিষধর নয়, তবে কোনটি বিষধর তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই প্রতিটি সাপের কামড়কেই গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসুন।
4. রোগীকে যতটা সম্ভব শান্ত রাখুন এবং অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া কমিয়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
5. সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনে Anti-Venom প্রয়োগের মাধ্যমে অধিকাংশ সাপে কাটা রোগীকেই সফলভাবে সুস্থ করা সম্ভব।
দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সর্বদা জনসাধারণের পাশে রয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাই পারে একটি মূল্যবান জীবন বাঁচাতে।